শহরের কোলাহলে বা গ্রামের নিভৃত কোণে—এমন অনেক নারী আছেন যাদের চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন, কিন্তু পকেটে নেই পুঁজি। কেউ হয়তো সেলাই জানেন, কেউ ভালো পিঠা বানাতে পারেন, আবার কেউ ছোট মুদি দোকান চালাতে চান। এই অদম্য নারীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্যই কাজ করছে শক্তি ফাউন্ডেশন (Shakti Foundation for Disadvantaged Women)।
নামের মধ্যেই যার পরিচয়—‘শক্তি’। এটি শুধু একটি এনজিও নয়, বরং বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত নারীদের ঘুরে দাঁড়ানোর এক অদৃশ্য শক্তি। ১৯৯২ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি আজ হাজার হাজার নারীকে শিখিয়েছে কীভাবে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হয়।
আপনি যদি একজন নারী হন এবং নিজের পরিচয় গড়তে চান, তবে শক্তি ফাউন্ডেশন হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় আস্থার জায়গা।
Table of Contents
শক্তি ফাউন্ডেশন কেন সেরা
অন্যান্য অনেক এনজিওর ভিড়ে শক্তি ফাউন্ডেশন তাদের কাজের ধরণ দিয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
- এই প্রতিষ্ঠানের মূল ফোকাস নারীরা। তাদের কার্যক্রম এমনভাবে সাজানো যেন একজন গৃহিণীও সফল উদ্যোক্তা হতে পারেন।
- গ্রামের পাশাপাশি শহরের বস্তি বা নিম্ন-আয়ের এলাকায় তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী। শহরের ছোট পরিসরে যারা ব্যবসা করতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা।
- ঋণের পাশাপাশি তারা সদস্যদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ডাক্তার দেখানো ও ওষুধের ব্যবস্থা করে থাকে।
- সোলার প্যানেল বা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির জন্য ঋণ প্রদানে তারা অগ্রগামী।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণের ধরণ
শক্তি ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে সবার প্রয়োজন এক নয়। তাই তারা বিভিন্ন ধাপে ঋণ সুবিধা দিয়ে থাকে:
১. সাধারণ ক্ষুদ্রঋণ (Micro Credit)
এটি তাদের মূল কার্যক্রম। যারা একদম শুরু থেকে কিছু করতে চান—যেমন হাঁস-মুরগি পালন, সেলাই মেশিন কেনা বা ছোট চায়ের দোকান দেওয়া—তাদের জন্য এই লোন। অল্প পুঁজিতে বড় স্বপ্ন দেখার শুরুটা এখান থেকেই হয়।
২. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ঋণ (Micro Enterprise Loan)
আপনি কি আপনার ছোট ব্যবসাটাকে একটু বড় করতে চান? হয়তো আপনার একটি বুটিক শপ আছে, সেটিকে শো-রুমে রূপ দিতে চান। তাদের এসএমই (SME) লোন বা উদ্যোক্তা ঋণ আপনাকে সেই বড় পুঁজির যোগান দেবে। এখানে ঋণের পরিমাণ সাধারণ ঋণের চেয়ে অনেক বেশি।
৩. কৃষি ও মৌসুমী ঋণ
শহরের বাইরে যারা কৃষিকাজের সাথে যুক্ত, তাদের জন্য সার, বীজ বা কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য বিশেষ কৃষি লোন রয়েছে।
৪. পরিবেশ ও আবাসন ঋণ
নিজের ঘর মেরামত বা সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর জন্য শক্তি ফাউন্ডেশন বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিয়ে থাকে।
লোন পাওয়ার যোগ্যতা: কে আবেদন করতে পারবেন?
শক্তি পরিবারের সদস্য হতে হলে খুব সাধারণ কিছু যোগ্যতা থাকলেই চলে:
- আবেদনকারীকে অবশ্যই নারী হতে হবে (তবে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে পুরুষরাও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন)।
- বয়স সাধারণত ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে।
- শক্তি ফাউন্ডেশনের নির্দিষ্ট কর্ম এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- সদস্য হওয়ার মানসিকতা এবং নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস থাকতে হবে।
লোন পাওয়ার সহজ ৫টি ধাপ
শক্তি ফাউন্ডেশন থেকে লোন নেওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ গোছানো এবং স্বচ্ছ:
- প্রথমে আপনার এলাকার নিকটস্থ শক্তি ফাউন্ডেশনের অফিসে যোগাযোগ করুন বা তাদের ফিল্ড অফিসারের সাথে কথা বলুন।
- আপনাকে স্থানীয় একটি ‘সমিতি’ বা দলের সদস্য হতে হবে। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করাই তাদের মূল নীতি।
- লোন পাওয়ার আগে কয়েক সপ্তাহ আপনাকে নিয়মিত সঞ্চয় জমা দিতে হবে। এটি আপনার আর্থিক শৃঙ্খলার প্রমাণ।
- নির্দিষ্ট সময় পর আপনি ঋণের জন্য আবেদন করবেন। লোন কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তারা আপনাকে ছোটখাটো পরামর্শ বা প্রশিক্ষণও দিতে পারে।
- আপনার আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে খুব দ্রুততম সময়ে ঋণের টাকা আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে।
কিস্তি পরিশোধ ও সুবিধা
- সাধারণত সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করতে হয়।
- বাংলাদেশ সরকারের নিয়ম মেনে নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয়। কোনো গোপন ফি নেই।
- আপনি যদি সময়ের আগে বা নিয়মিত লোন পরিশোধ করেন, তবে পরবর্তী লোনে বিশেষ সুবিধা বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে।
শেষ কথা
শক্তি ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, “নারীর শক্তিই দেশের শক্তি”। আপনি যদি নিজেকে আর দশজন সাধারণ মানুষের ভিড়ে হারিয়ে ফেলতে না চান, যদি নিজের উপার্জনে সংসার ও সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে চান—তবে আজই শক্তি ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হোন। একটি ছোট সিদ্ধান্ত আপনার পুরো জীবনকে বদলে দিতে পারে।
বিস্তারিত জানতে আপনার নিকটস্থ শক্তি ফাউন্ডেশন শাখায় যোগাযোগ করুন অথবা তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।





