জীবনের প্রয়োজনে আমাদের টাকার দরকার হয়, এটা সত্য। কিন্তু যখন পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে, কিংবা বয়স্ক বাবা-মায়ের সেবার প্রয়োজন হয়, তখন কি শুধু টাকা দিয়ে সব সমাধান হয়? ঠিক এই জায়গাটিতেই সাজিদা ফাউন্ডেশন (Sajida Foundation) অন্যান্য এনজিও থেকে নিজেকে আলাদা করেছে।
তারা গতানুগতিক ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মতো কেবল ‘টাকা দেওয়া আর নেওয়া’র মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তাদের দর্শন হলো— “সবার জন্য স্বাস্থ্য, সুখ ও মর্যাদা”। আপনি যদি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করেন যারা আপনার বিপদে বন্ধুর মতো পাশে থাকবে, তবে সাজিদা ফাউন্ডেশন হতে পারে আপনার প্রথম পছন্দ।
Table of Contents
কেন সাজিদা ফাউন্ডেশন সবার চেয়ে আলাদা?
বাংলাদেশে এনজিওর অভাব নেই, কিন্তু সাজিদা ফাউন্ডেশনের জন্ম এবং পথচলা একটু ভিন্ন। রেনাটাস লিমিটেড (Renata Ltd)-এর মতো স্বনামধন্য কোম্পানির শেয়ারের লভ্যাংশ থেকে এই ফাউন্ডেশনটি পরিচালিত হয়। অর্থাৎ, এখানে মুনাফার চেয়ে মানুষের সেবাই মুখ্য।
তাদের বিশেষত্বগুলো এক নজরে:
- বিপদের সুরক্ষা কবচ: সাজিদা ফাউন্ডেশন তার ঋণ গ্রহীতাদের জন্য বীমা এবং বিশেষ স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে।
- শহুরে ও গ্রামীণ মেলবন্ধন: শুধু গ্রামে নয়, ঢাকা ও এর আশেপাশের শহুরে এলাকা এবং বস্তি উন্নয়নে তাদের কার্যক্রম অত্যন্ত শক্তিশালী।
- মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রবীণ সেবা: বাংলাদেশে খুব কম এনজিও আছে যারা প্রবীণদের (Senior Citizens) যত্ন এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে। সাজিদা ফাউন্ডেশন এক্ষেত্রে পথিকৃৎ।
আপনার স্বপ্ন পূরণে তাদের আর্থিক সেবাসমূহ
সাজিদা ফাউন্ডেশনের লোন বা আর্থিক সেবাগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যেন তা আপনার জীবনের প্রতিটি ধাপের প্রয়োজনে কাজে আসে।
১. সাধারণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ (Micro Enterprise Loan)
আপনার ছোট দোকান, সেলাইয়ের কাজ কিংবা ফেরি ব্যবসাকে বড় করতে চান? এই লোনটি আপনার জন্য। এর প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ এবং নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
২. কৃষি ও মৌসুমী ঋণ
যদিও তারা শহুরে উন্নয়নে বেশি পরিচিত, তবুও গ্রামীণ কৃষকদের জন্য তাদের বিশেষ কৃষি ঋণ রয়েছে। সার, বীজ কেনা বা গবাদিপশু পালনের জন্য এই লোন নেওয়া যায়।
৩. সম্পদ ও আবাসন ঋণ (Asset & Housing Loan)
জীবনের নিরাপত্তা মানেই নিজের একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই। ঘর মেরামত, নতুন ঘর তৈরি বা প্রয়োজনীয় সম্পদ কেনার জন্য এই দীর্ঘমেয়াদী লোন সুবিধাটি সদস্যদের জীবন বদলে দিচ্ছে।
৪. স্যানিটেশন ও মানসম্মত জীবন লোন
সুস্থ থাকতে হলে চাই ভালো পরিবেশ। স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপন, টিউবওয়েল বসানো বা পরিবেশবান্ধব চুলা কেনার জন্য এই বিশেষ লোন দেওয়া হয়।
লোন পাওয়ার যোগ্যতা
সাজিদা ফাউন্ডেশনের পরিবারের অংশ হতে চাইলে খুব জটিল কোনো সমীকরণের প্রয়োজন নেই। নিচের বিষয়গুলো নিশ্চিত করলেই আপনি আবেদন করতে পারেন:
- বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- সাজিদা ফাউন্ডেশনের নির্দিষ্ট কর্ম এলাকার স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদী বাসিন্দা হতে হবে।
- সৎ ও কর্মঠ হতে হবে এবং লোন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকতে হবে।
- তাদের স্থানীয় কোনো সমিতির সদস্য হয়ে সঞ্চয়ী মনোভাবের প্রমাণ দিতে হবে।
আবেদনের সহজ ধাপসমূহ
প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল এবং ঝামেলামুক্ত করার জন্য সাজিদা ফাউন্ডেশন সবসময় সচেষ্ট।
- আপনার নিকটস্থ সাজিদা ফাউন্ডেশনের ব্রাঞ্চ অফিসে যান।
- তাদের একটি গ্রুপ বা সমিতির সদস্য হোন।
- কিছুদিন নিয়মিত সঞ্চয় জমা দিন। এটি আপনার বিশ্বস্ততা তৈরি করবে।
- আপনার এনআইডি (NID) এবং ছবি জমা দিয়ে লোনের আবেদন করুন। ক্রেডিট অফিসার আপনার ব্যবসা বা আয়ের উৎস যাচাই করবেন।
- সবকিছু ঠিক থাকলে খুব দ্রুততম সময়ে আপনার হাতে টাকা পৌঁছে যাবে।
কিস্তি পরিশোধ ও নমনীয়তা
সাজিদা ফাউন্ডেশন বিশ্বাস করে, জোর করে আদায় নয়, বরং সক্ষমতা তৈরি করাই আসল কাজ।
- তাদের সার্ভিস চার্জ বা সুদের হার সরকারি নিয়ম মেনেই নির্ধারিত।
- বিপদ-আপদে (যেমন অসুস্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ) তারা সদস্যদের পাশে দাঁড়ায় এবং কিস্তি পরিশোধে মানবিক নমনীয়তা প্রদর্শন করে।
শেষ কথা
আপনি যদি এমন একটি আর্থিক সহযোগী চান যারা আপনার টাকার হিসাব রাখার পাশাপাশি আপনার স্বাস্থ্যের খবরও রাখবে, তবে আজই সাজিদা ফাউন্ডেশনের সাথে যুক্ত হোন। এটি শুধু একটি লোন নয়, এটি একটি সুস্থ ও সুন্দর জীবনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি।
আপনার এলাকার নিকটস্থ ব্রাঞ্চ বা তাদের বিস্তারিত সেবা সম্পর্কে জানতে সাজিদা ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন।





